প্রবাস

বিদেশ যাত্রায় ‘গলার কাঁটা’ করোনা সনদ

বিদেশ যাত্রায় এখন ‘গলার কাঁটা’ করোনা সনদ। শনিবার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের ধর্মঘটের কারণে ফ্লাইট ছিল এমন অনেক যাত্রীই নমুনা দিয়ে সঠিক সময়ে করোনা সনদ না পাওয়ায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন নি। এতে গচ্চা গেছে তাঁদের টিকিটের অর্থ। নমুনা দিতে গেলে বিদেশগামী যাত্রীদের পাসপোর্ট কপি, ভিসার কপি এবং টিকিটের কপি সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা আগে নমুনা দিতে পারছেন যাত্রীরা। এরপর সনদ পেলে তবেই বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে তাঁদের। সরকার ২৩ জুলাই থেকে আকাশ পথে বিদেশ গমনকারীদের জন্য করোনা (নেগেটিভ) পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করেছে। বিমান যাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে কোনো নমুনা জমা নেওয়া হবে না এবং ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটায় অনেকেই চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস সনদ না পাওয়ায় ইদানীং অনেক যাত্রী ফ্লাইট মিস করছেন। গত শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া এমিরেটসের ফ্লাইটে চারজন বিজনেস ক্লাস এবং ১১ জন ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী হাজির হতে পারেন নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং টার্কিশ এয়ারলাইনসের অনেক যাত্রী করোনা সনদ জটিলতায় বিদেশ যেতে পারেন নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি০৪৭ ফ্লাইটের টিকিট কেটেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু নমুনা জমা দিয়ে সঠিক সময়ে করোনা সনদ না পাওয়ায় গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেন নি তিনি।
মোস্তাফিজ বলেন, ‘করোনা টেস্টের রিপোর্ট আনতে গেলে ডিএনসিসির নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে বলা হয়, প্রিন্টারে সমস্যা হয়েছে, অনলাইনে রেজাল্ট পৌঁছে যাবে। রোদের মধ্যে না দাঁড়িয়ে থেকে সবাইকে বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়। এরপর আমি ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দরে যাই। কিন্তু বিকেল ৫টা পেরিয়ে সন্ধ্যা ৬টা বাজলেও করোনা টেস্টের ফল মেলে নি। সনদ না থাকায় আমাকে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। আমার টিকিটের দাম গচ্চা গেল। এমন দায়িত্বহীন আচরণের বিচার কোথায় দেব।’

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close